যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো বা জাতীয় গ্রিড লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নির্দেশ দিয়েছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তিনটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের কৌশলগত বার্তা

ইরানের নীতিনির্ধারক মহলে বিস্তারিত আলোচনার পর মিত্র হুথিদের কাছে এই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার প্রেক্ষিতে তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হুথিদের প্রস্তুতি

হুথিদের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তারা লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের সম্পন্ন রয়েছে এবং তারা এখন কেবল ইরানের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় আছে। ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রতিনিধিরাই এই প্রণালি বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। এর ওপর লোহিত সাগর বা বাব আল-মান্দেব প্রণালি অচল হয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুটি তেল রপ্তানি রুটই বন্ধ হয়ে যাবে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং জ্বালানি সংকটের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

সৌদি আরবের সাথে সংঘাত

অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যেই সম্প্রতি হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে দেশ দুটির মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি জ্বালানি রপ্তানির বিকল্প পথগুলোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এই নতুন হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এরই মধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতকে এক নতুন ও ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

জেএস