গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ‘ভালো লাগছে’: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং জনবসতি গুঁড়িয়ে দেওয়া নিয়ে বিতর্কিত ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। গাজার উত্তরাঞ্চলে সামরিক এলাকা পরিদর্শনের সময় ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি ভালো অনুভূতি, তাই নয় কি?’ তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৪’-এ গত সোমবার তার এই বক্তব্য সম্প্রচারিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাৎজ গাজার এই ধ্বংসযজ্ঞকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি ‘পরিকল্পিত ও সফল নীতির’ বাস্তবায়ন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ইসরায়েল তাদের সামরিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। আগে ইসরায়েলি বাহিনী সাময়িকভাবে গাজায় প্রবেশ করে আক্রমণ চালিয়ে বেরিয়ে আসত। কিন্তু এখন তারা গাজার অভ্যন্তরে স্থায়ীভাবে অবস্থান নেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। কাৎজ জানান, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের এলাকাছাড়া করে তাদের ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে।
এই পরিদর্শনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে উঠে এসেছে গাজার উত্তরাঞ্চলে স্থায়ীভাবে ইহুদি বসতি স্থাপনের রূপরেখা। কাৎজ ঘোষণা করেছেন যে, ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গাজা থেকে যে সেনা ও বসতি প্রত্যাহার করা হয়েছিল, ইসরায়েল আবারও সেই আগের অবস্থানগুলোতে ফিরে যাচ্ছে।
তিনি সেখানে তিনটি নতুন ‘নাহাল’ আউটপোস্ট বা সামরিক বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ‘নাহাল’ আউটপোস্ট এমন এক ধরনের সামরিক ক্যাম্প, যা পরবর্তীতে স্থায়ী বেসামরিক ইহুদি বসতিতে রূপান্তরিত করা হয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও নিকটবর্তী এলাকাগুলোর সুরক্ষার স্বার্থে এই দখল ও বসতি স্থাপন ‘অত্যন্ত জরুরি’।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত ও পঙ্গু হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। নির্বিচার হামলায় গাজা উপত্যকার প্রায় প্রতিটি শহর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং উপত্যকার বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী চরম অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন।
মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য এবং নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা গাজায় চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর ও জটিল করে তুলবে।
জেএস










