মাঠের লড়াইয়ে ৫-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি মানবিকতায় হৃদয় জিতে নিয়েছে নরওয়ে। ইসরায়েলের বিপক্ষে সেই ম্যাচের পুরো টিকিট বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ (MSF)-কে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। এই অর্থ সরাসরি গাজাসহ সংঘাতকবলিত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

কেন এই উদ্যোগ?

নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসা ক্লাভেনেস বলেন, "চলমান বৈশ্বিক মানবিক সংকটের সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। গাজায় সাধারণ মানুষের ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তার প্রতি আমরা নির্লিপ্ত থাকতে পারি না।" তিনি আরও জানান, এমএসএফ-এর মতো একটি নিরপেক্ষ সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে জীবনরক্ষার কাজ করছে।

বড় অঙ্কের সহায়তা

কেবল টিকিট বিক্রির অর্থই নয়, নরওয়ের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানও এই উদ্যোগের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে। তারা এই তহবিলে আরও ৩০ লাখ নরওয়েজিয়ান ক্রোনার (প্রায় ৩ লাখ ৫ হাজার মার্কিন ডলার) অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা মানবিক সহায়তার পরিমাণকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাঠের পারফরম্যান্সেও উজ্জ্বল নরওয়ে

এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। ‘ভাইকিংস’ নামে পরিচিত আর্লিং হলান্ডের দল শেষ ৩২-এ আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে এবং শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে ২-০ গোলে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল। যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়, তবে মাঠের ফুটবল ও মাঠের বাইরের মানবিক পদক্ষেপের জন্য তারা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।

বিশ্বমঞ্চে নরওয়ের ভাবমূর্তি

আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তায় নরওয়ের অবদান নতুন নয়। অতীতে ব্রাজিলের অ্যামাজন বন ও পরিবেশ সংরক্ষণে ‘অ্যামাজন ফান্ড’-এর অন্যতম প্রধান অর্থদাতা হিসেবে কাজ করেছে দেশটি। এবার ফুটবলকে মাধ্যম বানিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তারা আবারও প্রমাণ করল, খেলার চেয়েও বড় পরিচয়—মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।

ফুটবল বিশ্বের কঠিন এই সময়ে নরওয়ের এই মানবিক পদক্ষেপ ক্রীড়ামোদীদের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

জেএস