নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে বা তিনি বিএনপির দলীয় নাকি বাইরের কেউ হবেন—সে বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইন মেনে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে দুদিনব্যাপী ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএর মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বগুড়ার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করার পর বিএনপির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “এ বিষয়ে বিএনপি সভা করবে। আমাদের স্থায়ী কমিটির মিটিং হবে। এখনও আমাদের কোনো মিটিংই হয়নি। বৈঠকের পরই বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।” এ সময় রাষ্ট্রপতি পদে নিজের নাম আলোচনায় আসার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গত ১৭ বছরের শাসনামলে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বাজেট, অথচ কাজের বেলায় একটি ইটও নেই। গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে এমন দুর্নীতি করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার, অথচ মুখে ছিল কেবল উন্নয়নের বুলি।”
রাজনৈতিক বিতর্ক ও সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বাজেটের একটি বড় অংশ অপচয় হলেও গবেষণার মতো মৌলিক খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকে না। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কোল্ড স্টোরেজ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে গবেষণা বাড়াতে হবে এবং এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে হবে।
তরুণ সমাজের উদ্দেশে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, শুধু চাকরি বা ঠিকাদারির পেছনে না ছুটে তরুণদের কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তিনি সবার জন্য সহজলভ্য উন্নত চিকিৎসা, মানসম্মত শিক্ষা, কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য এবং শ্রমিকদের সঠিক শ্রমমজুরি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী আরডিএ উদ্ভাবিত ‘সবুজ প্রযুক্তি প্রদর্শন’ ঘুরে দেখেন এবং একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি লটকন গাছের চারা রোপণ করেন।
জেএস