হাইকোর্টের আদেশমুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র: দায়িত্ব নিলেন প্রতিষ্ঠাতা ডা. নাজিমুদ্দিন আহমেদ

ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট বোর্ড সংক্রান্ত তিনটি বিতর্কিত সম্পূরক নিবন্ধিত দলিলের কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র জীবিত প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. নাজিমুদ্দিন আহমেদ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সার্বিক প্রশাসনিক ও পরিচালনগত দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডা. নাজিমুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের জালিয়াতি, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দূর করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন ও সুশাসনের ধারায় ফিরিয়ে আনতেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
তিনি জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের চিকিৎসাসেবা দিতে ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই হাসপাতালের অধিনায়ক ছিলেন ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম এবং ডেপুটি ক্যাপ্টেন ছিলেন ডা. নাজিমুদ্দিন আহমেদ।
স্বাধীনতার পর সরকারের বরাদ্দ দেওয়া সাভারের ৩০ একর জমিতে প্রতিষ্ঠানটি ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ নামে কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৭২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ডা. এ টি এম জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডা. নাজিমুদ্দিন আহমেদ, সাদেক খান ও এম জাকারিয়াকে নিয়ে প্রথম ট্রাস্ট দলিল সম্পাদিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে সম্পূরক দলিলের মাধ্যমে ট্রাস্টি বোর্ডের দায়িত্ব ও ক্ষমতার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।
ডা. নাজিমুদ্দিন আহমেদ আরও জানান, ১৯৮০-এর দশকে ট্রাস্টি এম জাকারিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে মানবিক বিবেচনায় অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা মায়াকে প্রধান নির্বাহী এবং ২০০৮ সালে কো-সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর তাঁর অনুপস্থিতিতে স্বাক্ষর জাল করে গোপনে চতুর্থ সম্পূরক দলিল নিবন্ধন করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ২০২৩ সালে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তিনি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি, ভুয়া সনদ দাখিল এবং আইসিইউ অনুদান তছরুপের প্রতিবাদ করায় ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট তাঁকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে অপমানজনকভাবে বের করে দেওয়া হয়। পরে ট্রাস্টি বোর্ডের সমন্বয় সভা আয়োজনের উদ্যোগ নিলেও বাধা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে গত ৫ জুলাই হাইকোর্ট এক আদেশে ২০০৮, ২০১১ ও পরবর্তী বিতর্কিত সম্পূরক দলিলগুলোর কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং এ বিষয়ে রুল জারি করেন।
হাইকোর্টের আদেশের পর ডা. নাজিমুদ্দিন আহমেদ ঘোষণা দেন যে, তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে অতীতে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূতাপেক্ষভাবে (Retrospectively) পুনর্বহালের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “অতীতে যা ঘটেছে, সে জন্য আমার কারও প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা বিদ্বেষ নেই। অতীতের সব ভুল-ভ্রান্তি ভুলে সততা, নিষ্ঠা ও ঐক্যের সঙ্গে সবাইকে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানাই।”
ইউ

মো. শফিকুল ইসলাম সোহেল, সাভার প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






