বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আমরা চোখ-কান খোলা রেখে ইসিকে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছি।”

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন, যা আমরা বাতিল করার জোরালো দাবি জানিয়েছি। আমরা বলেছি—শিক্ষকদের এ সুযোগ বন্ধ করা যুক্তিযুক্ত নয়। আমাদের দাবির পর ইসি বিষয়টি আমলে নিয়েছে এবং এ নিয়ে পুনরায় আলোচনার আশ্বাস দিয়েছে।

(উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশনের এক সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখা এবং জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি বিধান রাখাসহ বেশ কিছু সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়।)

নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের সাম্প্রতিক নিয়োগ নিয়ে জামায়াতের প্রতিনিধিদল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, “উক্ত কর্মকর্তা অতীতে জাতীয় নির্বাচনে একটি বিশেষ দলের (বিএনপি) পক্ষে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে ইসির মতো স্পর্শকাতর জায়গায় নিয়োগ দিলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা তার এই নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছি।”

রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কঠোর অবস্থান তুলে ধরে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন:

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধকরণ: আওয়ামী লীগের রাজনীতি আইন দ্বারা নিষিদ্ধ থাকায় দলটির সঙ্গে যুক্ত যেকোনো ব্যক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে।

বিগত জনপ্রতিনিধিদের অযোগ্য ঘোষণা: বিগত সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় যাদের বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির পদে বসানো হয়েছিল, তাদেরও আগামী নির্বাচনসমূহে প্রার্থিতার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলে জানা গেছে।

জেএস