রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় বড় বোনকে হারানো কিশোর তাহসিন আব্দুল্লাহর মুখে ফুটে ওঠা নির্মল হাসি ছুঁয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হৃদয়। ছবিটির পেছনের হৃদয়বিদারক ইতিহাস জানতে পেরে তিনি তাহসিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার পড়াশোনা ও স্বপ্নের খোঁজখবর নেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাহসিন।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিজের প্রিয় বোন তাসনিয়াকে হারায় তাহসিন। সেদিন একই স্কুলে থাকলেও দুটি ভিন্ন ভবনে ছিল দুই ভাইবোন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া তাহসিন ঘটনার দিন দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে বোনকে বাঁচানোর আকুল অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু সেই অপেক্ষা আর শেষ হয়নি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া তাসনিয়া মারা যান।

বোন হারানোর পর থেকে তাহসিনের মুখে প্রাণখোলা হাসি ছিল অনুপস্থিত। এক হিলিং সেশনে সে লিখেছিল, “আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি... ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।”

দীর্ঘদিনের সেই বিষাদ পেরিয়ে গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে একটি অনুষ্ঠানে অন্য এক তাহসিনকে দেখা যায়। মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাছাকাছি আসতেই আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে কিশোর তাহসিন। তার সেই হাসিমাখা মুখের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

পরে সেই হাসির পেছনের মর্মান্তিক ইতিহাস জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নিতে। সেই ধারাবাহিকতায় এ সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর স্নেহ ও বিশেষ উপহার

বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া তাহসিনের কাছে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তার ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা জানতে চান। জবাবে তাহসিন বলে, সে বড় হয়ে এমন একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়, যার মাধ্যমে মানুষের উপকার হবে। প্রধানমন্ত্রী তার স্বপ্নের প্রশংসা করে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া ও খেলাধুলা করার পরামর্শ দেন।

কথোপকথনে তাহসিনের প্রিয় খেলা ফুটবল জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাকে নিজের সই করা একটি ফুটবল এবং বিশেষ উপহার তুলে দেন।

“স্বপ্নের মতো সারপ্রাইজ”

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়াটা তার জন্য এক বিরাট ‘সারপ্রাইজ’ ছিল।

“প্রধানমন্ত্রী একেবারে পরিবারের একজনের মতো কথা বলেছেন, তাই একটুও নার্ভাস লাগেনি। স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের এই গল্প শোনানোর জন্য আর তর সইছে না।”

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্তানহারা বাবা নাজমুল হকের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলামসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেএস