জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের বাধা ও ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

বুধবার (২৯ জুলাই) মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে রওনা দিয়ে বিকেল ৫টার দিকে শ্রীমঙ্গলের ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছালে এনসিপি নেতাদের পথরোধ করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ডা. মাহমুদা জাহান মিতুসহ অন্য নেতাকর্মীদের দীর্ঘক্ষণ বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে নেতাকর্মীরা সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন এবং বাধা পেয়ে সড়কেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পুলিশের এই বাধার মুখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া।

তিনি লেখেন, “বালুর ট্রাক ভোলা সহজ নয়। কিন্তু আমাদের আপনাদের মতো বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে ফেলা যাবে না।”

অন্যদিকে, এনসিপির আরেক শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, শত বাধা সত্ত্বেও তারা তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন এবং সেখানে যাবেনই।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে দলটি। ওই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতেই হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি হিসেবে একই স্থানে বিএনপি ও ছাত্রদলও বিক্ষোভের ডাক দেয়। দুই দলের এই মুখোমুখি অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বর্তমানে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

জেএস