খালের ভাঙনে বিলীন সুখছড়ি সড়ক, বন্ধ যান চলাচল

ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সুখছড়ি খালের ভাঙনে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের বড় অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এতে এলাকার শত শত মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ডলুকুল হয়ে সুখছড়িকুল পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কের কামাল কোম্পানি বাড়ি সংলগ্ন অংশটি খালের ভাঙনে সম্পূর্ণ নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে স্থানীয়রা বিকল্প হিসেবে আশপাশের বাড়ির আঙিনা দিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ভারী বর্ষণে খালের ভাঙন শুরু হলেও এবার বর্ষায় সড়কের অবশিষ্ট অংশও বিলীন হয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এদিকে সড়কের পূর্ব পাশে থাকা আলকুনি পাড়া সড়কও ভারী বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালের ভাঙন চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দ্রুত ভাঙনরোধ ও সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
লোহাগাড়া সুখছড়ি সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ইউনুচ বলেন, এলাকার মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে অতীতে কয়েকবার নিজেদের উদ্যোগে সড়কটি মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু এবার খালের তীব্র ভাঙনে সড়কের বড় অংশ বিলীন হয়ে যাওয়ায় চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এই সড়কটি বহু বছর ধরে এলাকার মানুষের প্রধান যাতায়াত পথ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হক বাবুল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে ভাঙন এলাকায় ইট ফেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ভারী বর্ষণে সড়কের পুরো অংশ খালের গর্ভে চলে যাওয়ায় এখন আর কোনো যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।
লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, সুখছড়ি খালের ভাঙনে সড়কটি বিলীন হওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, ভাঙনের বিষয়টি জানার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় তালিকা প্রস্তুত করে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার বলেন, ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইউ








