আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রাজস্ব হারাচ্ছে চৌমুহনী পোস্ট অফিস

ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন চৌমুহনী বাণিজ্যিক কেন্দ্রের প্রধান ডাকঘরটি জনবল স্বল্পতা ও কর্তৃপক্ষের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভুগছে। এর ফলে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ জনগণও স্বল্প খরচে চিঠিপত্র আদান-প্রদানসহ নানা আর্থিক সঞ্চয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ডাকঘরটির সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বললে নোয়াখালী জেলা ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল সংকর কুমার চক্রবর্তী জানান, পি আর রশিদের কোনো স্বল্পতা নেই। এ.ডি স্লিপের ঘাটতি থাকলে স্ব স্ব পোস্ট অফিস ফটোস্ট্যাট করে গ্রাহক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। চৌমুহনী পোস্ট অফিসে কাজের চাপ বেশি হলে লোকবল বাড়ানোর বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি ডাকসেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাত ৮টা পর্যন্ত সেবা চালু রাখা এবং এজেন্স পোস্ট অফিস কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
তবে ডাকঘরের অভ্যন্তরীণ চিত্র কিছুটা ভিন্ন। পোস্ট মাস্টার আবুল খায়ের জানান, এ.ডি স্লিপ এবং পি আর রশিদের সংকটের কথা একাধিকবার জেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তা সরবরাহ করা হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব ধরনের সেবা প্রদানে আন্তরিক থাকলে ডাকঘরের আয় বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবার বিস্তারিত প্রচার থাকলে সাধারণ মানুষও স্বল্পমূল্যের এসব সেবা গ্রহণে উৎসাহী হবেন।
জানা গেছে, চৌমুহনী পোস্ট অফিসে নিয়মিত সাধারণ ডাক, সাধারণ রেজিস্ট্রি এবং রেজিস্ট্রি উইথ এ.ডি-সহ দেশ-বিদেশে চিঠিপত্র ও পণ্য প্রেরণের সুবিধা রয়েছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই নির্ধারিত মাশুলে পণ্য পাঠানো যায়। এছাড়া রেজিস্টার্ড এ.ডি করা চিঠিসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যাদি প্রেরণের সময় গ্রাহক ও প্রাপকের নম্বর পস (POS) মেশিনে এন্ট্রি করা হলে অনলাইন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে চিঠির অবস্থান জানা সম্ভব।
মূল্যের দিক থেকেও সরকারি ডাক সেবা অত্যন্ত সাশ্রয়ী। একশত গ্রাম ওজনের একটি চিঠি দেশের ভেতরে রেজিস্টার্ড এ.ডি করতে খরচ হয় মাত্র ১৫ টাকা; যেখানে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে একই কাজের জন্য ৪০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
তবে প্রচার ও ব্যবস্থাপনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই (বুধবার) বিকাল ৩টা পর্যন্ত চৌমুহনী পোস্ট অফিসে মাত্র শতাধিক চিঠি জমা পড়েছে। অথচ একই সময়ে পার্শ্ববর্তী বেসরকারি সুন্দরবন বা এসএ পরিবহনের মতো কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে ৩-৪ শতাধিক চিঠি জমা হয়েছে, যার প্রতিটির মাশুল ছিল সর্বনিম্ন ৪০ টাকারও বেশি।
গ্রাহক ভোগান্তির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদক জানান, তিনি নিজে ঢাকায় একটি চিঠি 'রেজিস্টার্ড উইথ এ.ডি' করতে গেলে অপারেটর এ.ডি স্লিপ নেই বলে জানান। পরবর্তীতে বিষয়টি পোস্ট মাস্টারকে জানানো হলে তিনি নাইট পোস্ট অফিস থেকে দুটি স্লিপ জোগাড় করে চিঠিটি প্রেরণের ব্যবস্থা করেন।
ইউ

গোলাম মহিউদ্দিন নসু, বিশেষ প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







