লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বিচ্ছিন্ন ছিটমহল দহগ্রাম ইউনিয়নের বঙ্গেরবাড়ি ও মহিমপাড়া এলাকার সংযোগ সেতু এবং এর সংযোগ সড়কটি স্থায়ী সংস্কারের অভাবে প্রতি বছরই ভেঙে পড়ছে। কোনো দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না থাকায় বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন মহিমপাড়া গ্রামের হাজারো মানুষ।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সেতুর এক প্রান্তের সংযোগ সড়কের একটি বড় অংশ ভেঙে ধসে পড়েছে। এর ফলে সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং পথচারীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, গত বছর আকস্মিক বন্যায় সেতুটির একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে উপজেলা ত্রাণ তহবিল থেকে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কাঠ দিয়ে মেরামত করে চলাচল উপযোগী করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর আবারও বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় সংযোগ সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষার সময় পানির প্রবল স্রোত ও ভাঙনের কারণে একই স্থানে বারবার এই বিপর্যয় ঘটছে। সাময়িকভাবে মাটি ফেলে বা জোড়াতালি দিয়ে অস্থায়ী সংস্কার করা হলেও অল্প কিছুদিন যেতে না যেতেই তা আবার ধসে যায়। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী মেরামতের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সংযোগ সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে পারছেন না; ফলে অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের সময় ও পরিবহন খরচ—উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবছর একই খাতে বারবার অপ্রয়োজনীয় সরকারি অর্থ ব্যয় না করে সংযোগ সেতুটি টেকসই ও স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি নদী বা খালের তীর সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী অবসান সম্ভব।
দহগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
জেএস