স্বপ্নের বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব তো বটেই, অর্থনৈতিকভাবেও এবার রেকর্ড গড়ল স্পেন। নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি স্পেন জিতে নিয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর সর্বোচ্চ প্রাইজমানি। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেনের ঝুলিতে আসছে ৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৬ কোটি টাকার সমান।

রেকর্ড ভাঙা প্রাইজমানি

৪৮ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাসের বৃহত্তম এই বিশ্বকাপে ফিফা প্রাইজমানির অঙ্কেও এনেছে বড় পরিবর্তন। ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন দলকে ৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গত কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪২ মিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ এবার চ্যাম্পিয়ন দল ৮ মিলিয়ন ডলার বেশি পাচ্ছে।

পুরস্কারের বিস্তারিত তালিকা

শুধু চ্যাম্পিয়ন দল নয়, এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলই পারফরম্যান্স অনুযায়ী বড় অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে:

চ্যাম্পিয়ন: ৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা)।

রানার্সআপ (আর্জেন্টিনা): ৩৩ মিলিয়ন ডলার।

তৃতীয় স্থান: ২৯ মিলিয়ন ডলার।

চতুর্থ স্থান: ২৭ মিলিয়ন ডলার।

কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট (৫ম-৮ম): ১৯ মিলিয়ন ডলার করে।

রাউন্ড অব সিক্সটিন: ১৫ মিলিয়ন ডলার করে।

রাউন্ড অব ৩২: ১১ মিলিয়ন ডলার করে।

গ্রুপ পর্ব: ৯ মিলিয়ন ডলার করে।

অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতির আর্থিক সুবিধা

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের জন্য ফিফা মোট ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বরাদ্দ করেছে। প্রতিটি দল অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতির জন্য ২.৫ মিলিয়ন ডলার এবং যোগ্যতা অর্জনের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার করে পাচ্ছে। ফলে ট্রফি জয়ের অর্থমূল্যের বাইরেও প্রতিটি দেশ আর্থিকভাবে দারুণ উপকৃত হয়েছে।

ফুটবল ইতিহাসের নতুন দিগন্ত

২০২৬ সালের এই আসর শুধু দলসংখ্যা (৪৮) ও ম্যাচের (১০৪) কারণেই নয়, আর্থিক পুরস্কারের দিক থেকেও সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পাশাপাশি এই বিশাল অংকের অর্থপ্রাপ্তি স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক সাফল্য। তবে ট্রফি জয়ের আবেগের কাছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হয়তো গৌণ, তবুও আধুনিক ফুটবলে এই প্রাইজমানি খেলোয়াড় ও অ্যাসোসিয়েশনের জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

জেএস