জামায়াত এমপির বিতর্ক নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চাইলেন তাসনিম জারা

ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের একটি 'ব্যক্তিগত মুহূর্তের' ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। ভিডিওটিতে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই ওই তরুণীর একটি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে এমপির ‘জোর সুপারিশ’ এবং তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ও অ্যাক্টিভিস্ট তাসনিম জারা।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই জোরালো দাবি জানান।
ভাইরাল ভিডিও ও সিভি বিতর্ক
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যায়। এমপি দাবি করেছেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ জুন তিনি তাকে বিয়ে করেছেন।
তবে এর পাশাপাশি ওই তরুণীর একটি চাকরির সিভি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সিভিতে দেখা যায়, সবুজ কালিতে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন খোদ এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, যেখানে তারিখ দেওয়া রয়েছে ২২ জুন ২০২৬। অথচ ওই একই সিভিতে তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ করা হয়েছে। এই তথ্যের ফারাক এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
তাসনিম জারার ফেসবুক পোস্টের মূল বক্তব্য
ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা এই ঘটনার গভীরে থাকা সামাজিক ও ক্ষমতার কাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরেছেন। তিনি লেখেন, “সিভি অনুযায়ী তার বয়স মাত্র আঠারো। এসএসসি শেষ হওয়া মাত্রই যেহেতু চাকরি খুঁজছেন, তাই অনুমান করা যায় বাড়িতে অভাব। এই রকম সংসারে একটা চাকরি মানে শুধু চাকরি না। মানে মায়ের ওষুধ, ছোট ভাইয়ের ফিজিক্স টিচারের বেতন, বৃষ্টি এলে যে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে তা সারানো।”
ক্ষমতাবানদের দরজায় গরিব মানুষের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “এ দেশে গরিবের চাকরি হয় কীভাবে? পরীক্ষা দিয়ে, লাইনে দাঁড়িয়ে। আর সবশেষে, কোনো ক্ষমতাবান মানুষের দরজায় গিয়ে সুপারিশ নিয়ে। এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটির নাম এমপি সাহেব... কিন্তু সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে? হয়তো কিছুই না। হয়তো সবকিছু। আমরা জানি না। আর এই 'জানি না'-টাই আসল কথা।”
জামায়াতে ইসলামীর এমপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, “সম্ভাবনাটা হলো, জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য তার পদের জোর খাটিয়ে একটা অসহায় মেয়েকে একা রুমে নিয়ে গেছেন—চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে।”
তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান
ঘটনাটিকে নিছক সাধারণ কোনো কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখতে নারাজ এনসিপির এই সাবেক নেত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা চূড়ান্ত সত্য নয়, তবে প্রাথমিক প্রমাণ যেহেতু সামনে এসেছে, তাই এর সঠিক তদন্ত প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ আমাদের সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটি হোক, খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে মানুষটা কলঙ্কমুক্ত হবেন। আর সত্য হলে, 'মহান সংসদ' নামের মর্যাদাটুকু বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাকরির ক্ষেত্রে দলীয় বা ব্যক্তিগত ‘সুপারিশ প্রথা’ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন তাসনিম জারা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার বদলালেও কেন এই জিম্মিদশার সংস্কৃতি বদলায় না? আজকের এই ঘটনা সেই জিম্মিদশার চরম পরিণতিকেই ফুটিয়ে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেএস

Destiny Desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.











