ভারতের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। বিক্ষোভ চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। তবে আটকের প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনা যেভাবে ঘটে

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।

মিছিলটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি পৌঁছালে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ আটকে দেয়। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করে।

যাদের যেখানে রাখা হয়েছিল: আটকের পর রাহুল গান্ধীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সাবেক কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন।

মুক্তি: রাত ৯টার দিকে গান্ধী ভাইবোন দুজনকেই মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তি পেয়ে রাহুল গান্ধী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানান এবং এই আন্দোলনে সমর্থন জানানো সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা

বিক্ষোভের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, "শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায় মানে দেশের প্রতিটি পরিবারের ওপর অন্যায়। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"

বিক্ষোভ চলাকালে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে আলোচনা এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা অনড় রয়েছে। অন্যদিকে জিতেন্দ্র সিং দাবি করেন, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও পরে কংগ্রেস নতুন করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি যুক্ত করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগের দিন সোমবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। দেশজুড়ে চলমান এই আন্দোলন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

জেএস