দিল্লিতে সিজেপি’র ‘সংসদ চলো’ আন্দোলন, রণক্ষেত্র রাজপথ

ছবি: সংগৃহীত
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এ প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সোমবার (২০ জুলাই) এক উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর ডাকে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দিল্লির উচ্চ-নিরাপত্তা জোন।
অবরুদ্ধ রাজধানী: রাস্তা ও মেট্রো বন্ধ
বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়া রুখতে দিল্লি পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পার্লামেন্টের আশেপাশের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠিচার্জ
সোমবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিট নাগাদ হাজার হাজার বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা রেল ভবন, শাস্ত্রী ভবন ও কৃষি ভবনের কাছে পৌঁছে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রায়সিনা রোড, জনপথ ও অশোকা রোডে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সিজেপি’র দাবি ও অনড় অবস্থান
পরীক্ষায় অনিয়মের দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেয় সিজেপি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে এটিকে ‘ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সোমবার আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বৈঠক করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান মেলেনি। সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন ও রাহুল গান্ধীর সমালোচনা
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক ২৩তম দিনের মতো অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা ওয়াংচুক এক বার্তায় যুবকদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক আচরণ হতে পারে না। সরকার যা করছে তা অত্যন্ত জঘন্য।’
দিল্লির এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সারা দেশের।
জেএস

international desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.












