জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রায় ৭৩ হাজার টাকার ওষুধের হিসাব-গরমিলের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং তাকে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

অনিয়মের অভিযোগে প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও) ডা. শামছুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই ঘটনায় চিকিৎসা কেন্দ্রের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর কিপার) নূর-এ-কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জুলাই কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদ যাচাই করা হয়। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও ওষুধ ক্রয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেন ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. সালেকুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. ফখরুল ইসলাম এবং জাকসুর খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক।

পরিদর্শনে স্টোরে সংরক্ষিত ওষুধের প্রকৃত মজুদের সঙ্গে রেজিস্টারের হিসাব মিলিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। ক্রয় কমিটির তথ্যমতে, মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে ৯ ধরনের ওষুধের মোট ১৯ হাজার ৫৬৭ পিসের গরমিল পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৩ হাজার ১০১ টাকা।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ গায়েব হওয়া, অব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্টোর কিপারের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

এদিকে চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— দুর্নীতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ, অ্যাম্বুলেন্স সেবার উন্নয়ন, প্যাথলজি বিভাগ আধুনিকায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেলে পুরো মেডিকেল সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়ার কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ. কে. এম. রাশিদুল আলম জানান, ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওষুধের হিসাব-গরমিলের অভিযোগে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর কিপার) নূর-এ-কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ইউ