কিছুই জানেন না ইউপি চেয়ারম্যানতিস্তার পানি ওঠানামায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী

ছবি: ডেসটিনি প্রতিনিধি
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর পানি ওঠানামা করছে। এতে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, তার এলাকায় কোনো পরিবার পানিবন্দী হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে। একই দিন সকাল ৯টায় পানির স্তর ছিল বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) ভোরে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
পানির উচ্চতা বাড়ায় উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা (কেল্লাপাড়া) ও ভেন্ডাবাড়ি এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৫০০ থেকে ৭০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অনেকের ঘরের মেঝে পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। কেউ কেউ বসতঘর ভেঙে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়ন প্রকল্পসহ আরও দুই শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীভাঙনে একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা এবং অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়কও।
পানিবন্দী মানুষের খাবার, বিশুদ্ধ পানি, গবাদিপশুর খাদ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
ছাতুনামা (কেল্লাপাড়া) এলাকার বাসিন্দা হবিবর রহমান বলেন, “আমাদের এলাকায় পাঁচ থেকে সাত শতাধিক পরিবার পানিবন্দী। ঘরে পর্যন্ত পানি উঠেছে। চেয়ারম্যান একবারও খোঁজ নিতে আসেননি। এখনো আশ্রয়ন প্রকল্পসহ দুই শতাধিক পরিবার নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।”
একই এলাকার বাসিন্দা শুকুর আলী বলেন, “আমার ঘরে পানি উঠেছিল, এখন উঠানে নেমেছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। একটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা নদীতে ভেঙে গেছে। তবে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এবং সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লাভলু ইসলাম জানান, প্রায় ৭০০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। নদীভাঙনে একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা এবং শতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এমপি ছাড়া কেউ আমাদের খোঁজ নেননি। ইউপি চেয়ারম্যানও এখনো এলাকায় আসেননি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলার কথা বললেও কাজ শুরু হয়নি।”
তবে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক দাবি করেন, তার ইউনিয়নে কোনো পরিবার পানিবন্দী নয়। পরে ছবি ও ভিডিওর বিষয়ে জানানো হলে তিনি বলেন, “আমি বন্যার ত্রাণের চাল আনতে ডিমলায় গিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে ১৩ মেট্রিক টন চাল ও ২০টি শুকনো খাবারের প্যাকেজ পেয়েছি এবং সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে।”
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পানি বৃদ্ধির বিষয়ে আগেই জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা, পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হোক। দীর্ঘমেয়াদে তিস্তা নদীর স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইউ

মহিনুল ইসলাম সুজন, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.







