পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এখনও পর্যাপ্ত সময় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় রয়েছে, তাই এ বিষয়ে কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানী ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে। যেহেতু গত ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা, আশা করি সেই নির্ধারিত অধিবেশনেই এটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।”
এ সময় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনের বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যার অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই আইনগুলো পাস করা হবে না—এমনটি সঠিক নয়। তিনি জানান, মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনের খসড়া অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আগামী মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে তোলা হবে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা সংসদে উত্থাপন করা হবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, “খসড়া চূড়ান্ত করার আগে সিভিল সোসাইটি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এমনকি তা ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করে সাধারণ মানুষের মতামতও নেওয়া হয়েছে। সুপারিশগুলো যতটা সম্ভব এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতেও এটি বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করার সুযোগ রয়েছে।”
বর্তমান সরকারের সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গত কয়েক মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। গুমের অভিযোগ আসার পর আমরা এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমি অভ্যন্তরীণভাবে নির্দেশ দিয়েছি এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানোর জন্য। খুব স্বচ্ছভাবে এর তদন্ত হওয়া দরকার এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য যা যা করার, আমরা তা করেছি।”
জেএস