ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও কঠোর পুলিশি দমনপীড়নের পরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় ঘোষণা দিয়েছে যুব সমাজ ও শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরের দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তর আন্দোলনস্থলে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংঘর্ষ ও হতাহতের চিত্র
সোমবার (২০ জুলাই) মধ্য দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিমুখে আন্দোলনকারীদের পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘাত ছড়ায়। সংঘর্ষে আহতদের দ্রুত কাছের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বেশিরভাগকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন। এ ঘটনায় ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মঙ্গলবার মধ্য দিল্লিতে আধা-সামরিক বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ও সিজেপির অবস্থান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ঘোষণা দিয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, ‘আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। দিল্লি পুলিশের অমানবিক আচরণ থেকে আপনাদের রক্ষা করতে আমি আরও ভালো ভূমিকা রাখতে পারতাম।’ বিশেষ করে নারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে হেনস্তার শিকার হওয়ায় তিনি তাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন।
চলতি বছরের মে মাসে মেডিকেলে ভর্তির জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হন। শিক্ষার্থীদের পুনর্নির্বাচনী পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হওয়া এবং বহু শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকেই শিক্ষাব্যবস্থার গভীর দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছে সিজেপি।
সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করা অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনের পর এই আন্দোলন আরও বেগবান হয়। সোমবার ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সিজেপির দুই নেতার সঙ্গে বৈঠক করে সরকারের ভেতরে আলোচনার জন্য সময় চেয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি।
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের মধ্যে বারবার প্রশ্ন ফাঁস ও তীব্র চাকরির সংকটকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভ এবং পরবর্তীতে এর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতাদের সংযোগ মোদির তৃতীয় মেয়াদের সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কনফ্লিক্ট মনিটরিং রিসার্চ গ্রুপ ‘এসিএলইডি’-র এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পার্ল পান্ডিয়ার মতে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর এই দমনপীড়ন জনগণের ক্ষোভকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
জেএস