রাষ্ট্র সংস্কারে ঘোষিত ‘৩১ দফা’ কর্মসূচি এবং সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার রাতে দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা মিত্র দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণে এই নৈশভোজ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট ও ইসলামী ঐক্যজোটসহ ৪১টি দলের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের পরিবেশটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। গত ১৫ বছর ধরে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছি, যারা কারাবরণ করেছেন, গুম বা হত্যার শিকার হয়েছেন—তাদের সবার অবদানকে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।’
অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিগত সরকার দেশ ও অর্থনীতিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল। ব্যাংক লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রকে গুছিয়ে জনগণের কাছে ফিরিয়ে নিতে সরকার কাজ শুরু করেছে।’
তিনি আরও জানান, কাজের অগ্রাধিকার ও ব্যস্ততার কারণে সব দলের সঙ্গে নিয়মিত বসা সম্ভব না হলেও, এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রায়শই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল জানান, বর্তমান আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। তবে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শরিক দলগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই বিএনপি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, ‘২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা, তা পূরণে আমাদের ৩১ দফা কর্মসূচি ও জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজ আরও গতিশীল হবে।
জেএস