যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের শাস্তির বিষয়টি নিয়ে নজিরবিহীন বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো বর্তমানে চরম রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। বালোগুনকে লাল কার্ড দেখানো হলেও তার এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ বিশ্বকাপ পরবর্তী সময় পর্যন্ত স্থগিত করার বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ইনফ্যান্তিনোর নেতৃত্ব এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে।

‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বালোগুনের শাস্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করেছে। এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছেন স্বয়ংক্রিয়াভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি জানান যে তিনি বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ফিফা লাল কার্ড বহাল রাখলেও নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফিফার একাধিক সদস্য দেশ ইনফ্যান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এখন পর্যন্ত যে দেশগুলো এই সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, মিশর ও সেনেগালও ফিফা নেতৃত্বের প্রতি নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে।

ফিফার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ফিফার ব্যাখ্যা হাস্যকর এবং ইনফ্যান্তিনো বর্তমানে গভীরভাবে বিচ্ছিন্ন। তিনি এখন এমন একজন সভাপতিতে পরিণত হয়েছেন যিনি তার প্রকৃত ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন।

একসময় ইনফ্যান্তিনোর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, এবারের বিশ্বকাপের ঘটনার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এর ফলে:

ইনফ্যান্তিনোর ক্লাব বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়েছে।

২০৩১ সালের পরও সভাপতি পদে টিকে থাকার জন্য গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি ঠিক কারা অনুমোদন করেছিল, সে বিষয়ে ফিফা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেনি।

জেএস