বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা একটি বড় নিয়ামত, যা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনে নেই। এই সংগঠনের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টি গভীরভাবে বিদ্যমান।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘আল্লাহর পথে ত্যাগ ও কোরবানির সুফল পাবে জাতি’

জামায়াত আমির বলেন, উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন মুসলমানরা। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পেছনে সেই ধারাবাহিকতা ছিল। জামায়াতে ইসলামীর ৮৬ বছরের অভিযাত্রায় অসংখ্য নেকবান্দা যুক্ত ছিলেন। তাদের ত্যাগ, কোরবানি ও শাহাদাতের রক্ত বৃথা যাবে না। আল্লাহর পথে তাদের এই ত্যাগের সুফল জাতি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় দায়িত্ব প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে আমরা ৯০টি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি। মানুষ একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য যদি শুধু জামায়াতকে ক্ষমতায় আনা হয়, তবে তার ব্যাপ্তি শুধু দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, যার ব্যাপ্তি আখিরাত পর্যন্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরে থাকা অশুভ শক্তি বা পশুত্বকে দমনের আগে নিজের ভেতরের পশুত্বকে দমন করতে হবে। আল্লাহর কিতাব ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরলে কেউ পথ হারাবে না।’

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে সমাজ থেকে ভালো মানুষগুলোকে বাছাই করতে হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মানবিক যোগ্যতাসম্পন্ন, হালাল উপার্জনকারী এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা আছে—এমন নেতৃত্বকেই প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি যে স্তরের জনশক্তিই হোন না কেন, তাকেই সুযোগ দিতে হবে।’

মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ

উপমহাদেশের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের মুসলমানরা আজ জানমাল, ইজ্জত ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে কাশ্মীরের মুসলমানরা দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করে যাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুসলিমরা সার্বজনীন গোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও আশ্চর্যজনকভাবে তাদেরই একটি স্বার্থান্বেষী মহল সাম্প্রদায়িক হিসেবে অপপ্রচার চালায়।’

শিক্ষাশিবিরে সংগঠনের অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং সারা দেশের জেলা ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আমির সবাইকে নিজের ঘর মজবুত করা এবং নারী-পুরুষের সমন্বয়ে সমাজ ও দেশ গঠনের কাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

জেএস