গণদাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি দেখতে নারাজ ঝিনাইদহবাসী

ঝিনাইদহ নগর ভবন ছবি: প্রতিনিধি
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত জেলা হওয়া সত্ত্বেও ঝিনাইদহ এখনো রেল যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নত চিকিৎসা সুবিধার অভাবে জটিল রোগীদের যশোর, কুষ্টিয়া কিংবা ঢাকায় নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে থাকা ঝিনাইদহের ১২টি নদ-নদীসহ খাল, বিল, বাঁওড় ও খাস জলাশয় রক্ষা, বিপ্লবী বাঘা যতীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং ইলা মিত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান, জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে রেলপথ চালু, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাঁওড়সহ জলমহালের ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করে জেলে, মজুর ও ভূমিহীনদের সামাজিক মালিকানা নিশ্চিত করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের এসব গণদাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উর্বর কৃষিজমি এবং তুলনামূলকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগমুক্ত জেলা হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও শিল্পায়নের ব্যাপক সম্ভাবনা বহন করলেও উন্নয়নের নানা সূচকে এখনো পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর এখনই উপযুক্ত সময়।
জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে রেলপথ, মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নদ-নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। এসব দাবি এখন জেলার সাধারণ মানুষের গণদাবিতে পরিণত করেছে।
সাংবাদিক সুজন বিপ্লবের নেতৃত্বে ২০১১ সাল থেকে ঝিনাইদহে রেললাইন, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, ক্ষেতমজুর সমিতি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। তবে এখনো দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী স্পর্শ বিশ্বাস বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ রুটে শাটল ট্রেন চালু করা।
ঝিনাইদহে রেললাইন চালু হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং পরিবহন-সংক্রান্ত ভোগান্তিও কমবে।"
বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুমন শিকদার বলেন, "প্রতিটি পাড়া, মহল্লা ও গ্রামে লাইব্রেরি এবং সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র গড়ে উঠলে আলোকিত মানুষ ও মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে।"
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঝিনাইদহের উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট এসব দাবি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। দলমত নির্বিশেষে জেলার সর্বসাধারণের সময়ের দাবি , নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে দীর্ঘদিনের গণদাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইউ

মাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






