নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক শুরু

ছবি: সংগৃহীত
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈঠকে যারা উপস্থিত রয়েছেন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন— নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও সময়সীমা
গত ২৪ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই হিসেবে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে এই আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী এই তফসিল প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন সংক্রান্ত মূল বিষয়গুলো হলো:
ভোটার: জাতীয় সংসদের সদস্যরা এই নির্বাচনে ভোটার হন। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন (একটি আসনের গেজেট এখনও প্রকাশ হয়নি)।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া: প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে, পাশাপাশি প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
ভোটগ্রহণ: একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ হবে এবং সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সমান ভোট পড়লে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।
জেএস

ডেসটিনি প্রতিবেদক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










