শিক্ষা খাতের বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বর্তমান সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এই তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সংস্কার করে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে: নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন ও ঝরে পড়া রোধে এবারই প্রথম শিক্ষা খাতের বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
এই প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মোট ৪,১৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। (এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৩,৫৯৯ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৬০০ কোটি টাকা)।
‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের অধীনে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২১ জন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে আধুনিক ও বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে পরিচালন বাজেটে ৩,০৪০.৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণে ১,৩০০ কোটি টাকা এবং মাধ্যমিকের উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তির জন্য ৫,৫৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে এবং আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ৫টি বিশেষ প্রকল্প (যার মধ্যে পিইডিপি-৫ অন্তর্ভুক্ত) হাতে নিয়েছে। এর পাশাপাশি নিচের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে:
১. বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি প্রদান।
২. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'স্কুল ফিডিং' বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি।
৩. স্কুল ড্রেস ও আনন্দময় শিক্ষার জন্য ক্রীড়া উপকরণ সরবরাহ।
"শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্য অর্জনেই সরকার পরিকল্পিতভাবে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে।"
ইউ

ডেসটিনি প্রতিবেদক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










