গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বেকায়দায় নিন্ম আয়ের মানুষ

ছবি: ডেসটিনি প্রতিবেদক
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে শ্যামনগরসহ উপকূলীয় অঞ্চলে টানা সপ্তাহব্যাপী গুঁড়ি গুঁড়িসহ, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অঞ্চল ভেদে শ্যামনগরসহ সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
টানা ও ভারী বর্ষণে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব ও দুর্বল ড্রেনেজের কারণে পৌর শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলা শহর ও উপকূলীয় চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
একটানা ভারী ও মাঝারি বৃষ্টির শ্যামনগর উপজেলার নিচু এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নাবান্নাসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বৈরি আবহাওয়ায় মাছ ধরতে না যাওয়ায় ঋণের জালে আটকা পরছে হাজারো জেলে। ভ্যান রিকশাচালক, দিনমজুর ও কৃষকদের আয় কমে গেছে এবং কর্মহীন হয়ে পড়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে। তলিয়ে গেছে কৃষকের ফসলের মাঠ এবং ভেসে যাচ্ছে অনেক মাছের ঘের, যার ফলে কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালকের পক্ষে আবহাওয়াবিদ মোঃ জুলফিকার আলি রিপন জানান, দেশের দক্ষিন-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে শ্যামনগরসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় সকল মাছ ধরা ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায় গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর প্রভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া কেন্দ্রের চারপাশে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় পায়রাসহ উপকূলীয় সমুদ্রবন্দর গুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে এবং পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। পৌরশহর গুলোতে পানির জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বলা হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদী ও সমুদ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউ

রবিউল ইসলাম, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।









