সংবাদটি সরানো হতে পারে, অথবা লিঙ্কটি ভুল হতে পারে। অনুগ্রহ করে URL টি পরীক্ষা করুন অথবা আমাদের অন্যান্য সাম্প্রতিক সংবাদগুলি দেখুন।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সংঘাতের জেরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সারা দেশের সঙ্গে রাজশাহীর দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক এই ধর্মঘটে কর্মজীবী, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ হাজারো যাত্রী সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে শিরোইল বাস টার্মিনালসহ শহরের প্রতিটি কাউন্টার ছিল জনশূন্য। বাসের অপেক্ষায় এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীরা এখন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প ছোট যানবাহনে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রতিবছরই বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। আগে বন্যা হলেও পানি দু-একদিনের মধ্যে নেমে যেত, কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ জনপদ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পানির নিচে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল কি একমাত্র কারণ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ কোনো পরিবেশগত বিপর্যয়? সরেজমিনে তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার এই দীর্ঘস্থায়িত্বের পেছনে অতিবৃষ্টির পাশাপাশি নদী-খাল দখল, নিয়মিত খননের অভাব এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নযজ্ঞের এক সম্মিলিত নেতিবাচক প্রভাব কাজ করছে। বান্দরবানের পাহাড় থেকে উৎপত্তি হওয়া হাঙ্গর খাল একসময় ছিল পাহাড়ি ঢলের পানির প্রধান নিষ্কাসন পথ। লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার বুক চিরে বয়ে যাওয়া এই খাল এখন মৃতপ্রায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটির শেষ অংশ দখল ও পলি জমে ভরাট হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। ফলে পাহাড়ি ঢলের বিপুল জলরাশি নদীতে পৌঁছানোর আগেই লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। একইভাবে ডলু খাল, গড়াল খালসহ অগণিত শাখা খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় নাব্যতা হারিয়েছে।
দুই দিনের অতিভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। গত জুন ও জুলাই মাসের শুরুতে দুই দফা বন্যার পর এটি চলতি মৌসুমে তিস্তায় তৃতীয় দফার বন্যা পরিস্থিতি।
টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। দুর্গত এলাকার চিত্রমন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এই দুর্যোগে আক্রান্ত সাতটি জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। সব মিলিয়ে এই জেলাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহত ও আহতের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানদুর্যোগে প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা কক্সবাজার। বিস্তারিত চিত্র নিচে দেওয়া হলো: কক্সবাজার: ৩১ জন নিহত, ২৪ জন আহত।
বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় পাঁচ জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারে থাকা অন্য সাত জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ জেলেরা হলেন—নাছির উদ্দীন (১৮), মো. করিম (২০), আইয়ুব মনির (২৩), কামাল (৪৫) এবং নাছির উদ্দীন (১৮)। এদের মধ্যে চারজন কুতুবদিয়া উপজেলার এবং একজন পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত না হলে বিএনপি সরকারের পতন ঘটানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় নওগাঁর পোরশা উপজেলার সারাইগাছী মোড়ে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “যদি সংস্কার ও শেখ হাসিনার বিচার বাস্তবায়ন না হয়, তবে আমরা বিএনপি সরকারের পতন ঘটাবো। ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠন করে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের খুনিদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলাবো এবং বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন করবো।”
নীলফামারীর ডোমারে ট্রাকচাপায় এক নারী, তার দুই শিশু সন্তান ও এক ভ্যানচালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে ডোমার-জলঢাকা মহাসড়কের মটকুপুরের নদীয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—উপজেলার নাদিয়াপাড়া এলাকার ভ্যানচালক পরিমল বর্মন (৪০), একই এলাকার প্রতিমা রানী (২৮) এবং তার দুই ছেলে পিতোষা (৮) ও যাদব (৪)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টার দিকে ব্যাটারিচালিত একটি ভ্যান যাত্রী নিয়ে ডোমার-জলঢাকা সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। পথে নদীয়া এলাকায় পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে ঘটনাস্থলেই যাত্রী প্রতিমা রানী মারা যান।
‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কাঠালিয়ায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারি দলের এমপিদের তুলনায় বিরোধী দলীয় এমপিদের বরাদ্দ অত্যন্ত নগণ্য বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “সরকারি দলের এমপিরা যে বরাদ্দ পান, বিরোধী দলীয় এমপিরা তার তিনভাগের একভাগও পাচ্ছেন না।” শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের চার দফা দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোটের দাবি থেকে আমাদের সরানোর জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল, সেই লক্ষ্য অর্জনেই গণভোট হয়েছে। আমরা জাতির কাছে ওয়াদা করেছি, গণভোট বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভোটের আগে দুটি ভোটের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত গণভোটের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।