ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াই বা দর্শকদের আবেগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ চলাকালে কোটি কোটি মানুষ খেলা দেখতে ব্যস্ত থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কমে যায়। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন (১ হাজার ৭০০ কোটি) মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবসম্পদ ও কর্মী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ইউকেজি (UKG)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে গিয়ে অনেক কর্মী অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন, কেউ দেরিতে কাজে যোগ দিয়েছেন, আবার অনেকে কাজের সময় খেলা দেখায় মনোযোগ হারিয়েছেন। এর সম্মিলিত প্রভাবেই উৎপাদনশীলতায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার সমান।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কর্মক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম এনভয় (Envoy)–এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র দল শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পরদিন অফিসে উপস্থিতি প্রায় ২৬ শতাংশ হ্রাস পায়। একই দিনে ক্লায়েন্ট মিটিং, চাকরির সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক বৈঠকের সংখ্যাও প্রায় ৩২ শতাংশ কমে যায়। প্রতিষ্ঠানটি এই দিনটিকে ‘নকআউট টিউসডে’ নামে উল্লেখ করেছে।
কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং যানজট কমাতে বেশ কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। জেপি মরগান চেজ, গোল্ডম্যান স্যাকস ও এসঅ্যান্ডপি–সহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ম্যাচের দিন কর্মীদের বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার অনুমতি দেয়।
এনভয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ফাইনালের পরদিন কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। কারণ ফাইনালে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেয়নি। ফলে সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় উপস্থিতি কমেছে মাত্র ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, অলিম্পিক, বিশ্বকাপ কিংবা বড় বিনোদনমূলক আয়োজনের সময় কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া নতুন বিষয় নয়। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ চলাকালে যে পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাব উঠে এসেছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউ
সূত্র: এনডিটিভি