ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতেছে স্পেন। পুরো ১২০ মিনিটের ম্যাচে আর্জেন্টিনার ওপর দাপট বজায় রেখে জয় নিশ্চিত করে ‘লা রোজা’রা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এই হারের পেছনে বিশেষজ্ঞরা মূলত পাঁচটি কারণকে চিহ্নিত করেছেন।

১. মেসি-নির্ভরতার খেসারত

টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসিকে এদিন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখে স্পেনের রক্ষণভাগ। পুরো ম্যাচে মেসির প্রত্যাশিত গোল (xG) ছিল মাত্র ০.০৪। খেলার প্রথম ১৫ মিনিটে মাত্র একবার বল স্পর্শ করতে পারা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এদিন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পাসও দিতে পারেননি, যা দলের আক্রমণভাগে বড় শূন্যতা তৈরি করে।

২. মাঝমাঠের দখল হারানো

পুরো আসরজুড়েই স্পেনের মাঝমাঠ ছিল অপ্রতিরোধ্য। ফাইনালেও তারা বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। নিখুঁত পাসিং এবং ধারাবাহিক চাপের মুখে আর্জেন্টিনাকে বেশিরভাগ সময় নিজেদের অর্ধেই রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে হয়েছে।

৩. এঞ্জো ফের্নান্দেজের লাল কার্ড

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয়ার্থের যোগ করা সময়ে। পাউ কুবার্সির ওপর ফাউল করে এঞ্জো ফের্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের আক্রমণ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে, যার চরম মূল্য দিতে হয় ১০৬তম মিনিটে গোল হজম করে।

৪. রক্ষণে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের অনুপস্থিতি

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয় লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে। রোমেরোর সঙ্গে তার রক্ষণভাগের বোঝাপড়া এই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার শক্তির বড় উৎস ছিল। তার পরিবর্তে ওতামেন্দি মাঠে নামলে রক্ষণের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং রক্ষণ থেকে বল এগিয়ে নেওয়ার দক্ষতায় ভাটা পড়ে।

৫. আক্রমণভাগের চরম ব্যর্থতা

পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফুটবল খেলা আর্জেন্টিনা ফাইনালে এসে গোলপোস্টের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে তারা একটি শটও লক্ষ্যে নিতে পারেনি। পুরো ১২০ মিনিটে মাত্র দুটি শট নিতে পারা আর্জেন্টিনার প্রত্যাশিত গোল (xG) ছিল মাত্র ০.১৭। বিপরীতে স্পেন ২০টি শট নিয়ে ১২টিই লক্ষ্যে রেখেছিল, যা প্রমাণ করে আক্রমণভাগে কতটা অসহায় ছিল আলবিসেলেস্তেরা।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের। অন্যদিকে, স্পেনের পরিকল্পিত এবং দাপুটে ফুটবল তাদের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট এনে দিয়েছে।

জেএস