১১৫ দিনের অবরুদ্ধতা কাটিয়ে দেশে ফিরছেন ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ১৬ নাবিক

ছবি: ডেসটিসি প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১১৫ দিন হরমুজ প্রণালিতে অবরুদ্ধ থাকার পর নিরাপদে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা-এর ১৬ জন নাবিক।
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে তারা হযরত শাহজাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে।
জাহাজটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দরে ১৭ জন নাবিক জাহাজ থেকে ‘সাইন অফ’ করেছেন। তবে তিনি নিজে এখন দেশে ফিরছেন না। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সেখান থেকে দেশে ফিরবেন।
ফলে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলামসহ ১৬ জন নাবিক সোমবার ডারবানের কিং শাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন। মঙ্গলবার সকালে দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে তাদের রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছানোর পরদিনই ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়। এর জেরে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তিনবার চেষ্টা করেও প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি বাংলার জয়যাত্রা।
অবশেষে ২২ জুন সকালে শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙর এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে ২৩ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে জাহাজটি। ওইদিনই এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে নোঙর করে।
দীর্ঘ অবরুদ্ধতা কাটিয়ে গত ২৬ জুন ফুজাইরাহ বন্দর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে বাংলার জয়যাত্রা। জাহাজের অবস্থান পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিক অনুযায়ী, ১৬ জুলাই জাহাজটি ডারবান বন্দরে পৌঁছায়।
জাহাজটিতে ৩৭ হাজার ৫০ টন সার বহন করা হচ্ছিল। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে সার বোঝাই করা হয়েছিল। বর্তমানে ডারবান বন্দরে সেই সার খালাস করা হচ্ছে। সার খালাস শেষে জাহাজে চিনি বোঝাই করা হবে। এরপর জাহাজে দায়িত্বে থাকা অন্য নাবিকরা সেটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে নিয়ে যাবেন।
বিএসি মালিকানাধীন জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। জাহাজটিতে মোট ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক কর্মরত ছিলেন।
দীর্ঘ চার মাসের অনিশ্চয়তা, যুদ্ধের আশঙ্কা এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন কাটানোর পর নাবিকদের নিরাপদে দেশে ফেরায় পরিবার–পরিজন ও সহকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ইউ

চট্টগ্রাম ব্যুরো
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.












