সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা থেকে মিরাজ শেখ (৩০) নামের এক জেলেকে গুম করার অভিযোগের ঘটনা অবিলম্বে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির মতে, সর্বশেষ কোস্টগার্ডের হেফাজতে দেখা যাওয়া মিরাজ শেখের এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি গত দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রথম গুমের ঘটনা হতে পারে।

লন্ডনের স্থানীয় সময় রোববার রাতে এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। গুম প্রতিরোধের লক্ষ্যে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাব বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরকারের সরে আসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

যেভাবে নিখোঁজ হন মিরাজ শেখ

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল রাতে মোংলার সুন্দরবনসংলগ্ন জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্টগার্ডের সদস্যরা জেলে মিরাজ শেখকে আটক করে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যান। পরদিন মিরাজের পরিবার মোংলায় কোস্টগার্ডের কার্যালয়ে গেলে প্রথমে তাদের বিকেলে আসতে বলা হয়। কিন্তু বিকেলে গেলে কোস্টগার্ড জানায়, মিরাজ কখনোই সেখানে ছিলেন না।

যে চায়ের দোকান থেকে মিরাজকে তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং যেখানে তার মোটরসাইকেলটি ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই দোকানের মালিক জানান, ২১ এপ্রিল কোস্টগার্ডের সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান এবং পরদিন তা আবার ফেরত দিয়ে যান।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন ও সরকারি কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় মিরাজের বাবা হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুলাই হাইকোর্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মিরাজ শেখকে খুঁজে বের করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে, কোস্টগার্ডের পশ্চিমাঞ্চলের জনসংযোগ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন মিরাজ শেখকে আটকের কথা অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

আইনি সংস্কার নিয়ে এইচআরডব্লিউর উদ্বেগ

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ ও ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর মাধ্যমে গুমের স্বাধীন তদন্তের সুযোগ ছিল। তবে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার ওই অধ্যাদেশগুলোর মেয়াদ শেষ হতে দিয়ে নতুন আইন প্রস্তাব করেছে, যেখানে পুলিশকে গুমের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ‘শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে হাজারো মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং সর্বশেষ এই ঘটনা দেখাচ্ছে যে যথাযথ সংস্কার ছাড়া এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।’ তিনি প্রস্তাবিত আইন সংশোধন করে মানবাধিকার কমিশনকে গুমের ঘটনা তদন্তের পূর্ণ কর্তৃত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

জেএস