আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের বিষয়টি কেবল ফুটবলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি এখন বিশ্বরাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, স্পেনের এই জয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির বিরোধিতাকারী বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য এক বড় আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

ফিলিস্তিন ও ইরানের প্রতি স্পেনের অবস্থান

সোমবার (২০ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পেনের জাতীয় ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রকাশ্য নিন্দা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী পদক্ষেপের সমালোচনার মাধ্যমে স্পেন তাদের স্বাধীনচেতা ও সম্মানজনক চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘স্পেনের এই জয় বিশ্বের বহু ন্যায়বিচারপ্রিয় জাতির মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।’

রাজনীতির মাঠে ফুটবলের প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপ চলাকালে স্পেনের প্রতি বিশ্বব্যাপী সমর্থনের বড় একটি কারণ ছিল তাদের রাজনৈতিক অবস্থান। ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে এবং বৈশ্বিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশটির সরকারের দৃঢ় অবস্থান সাধারণ মানুষের মনে তাদের নিয়ে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। ইসরায়েলি রাজনীতিক ও সমর্থকরা আর্জেন্টিনা দলকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এছাড়া আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ে মিলেই ইসরায়েলি নীতির অন্যতম বড় সমর্থক হিসেবে পরিচিত, যা ফাইনাল ম্যাচটিকে ফুটবল মাঠের বাইরে একপ্রকার আদর্শিক লড়াইয়ে রূপ দিয়েছিল।

ইরানের প্রশংসাপত্র

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়িও স্পেনের প্রশংসা করেছেন। তিনি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আগ্রাসন, গণহত্যা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্পেন সরকারের গৃহীত অবস্থান এবং দেশটির ফুটবল দলের আচরণকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।

ফুটবল মাঠে স্পেনের এই বিজয় এখন বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

জেএস