মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। জর্ডান ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সরাসরি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি ও কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি ছিল তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-র তথ্যমতে, জর্ডানের ঘাঁটিতে মার্কিন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে, কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ড সেন্টারে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের চেষ্টার জের ধরে কয়েকদিন ধরেই উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। গত ৮ ও ৯ জুলাই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের উপকূলীয় স্থাপনা ও যোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইরান এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে ‘কঠিন জবাব’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যারই ধারাবাহিকতায় জর্ডান ও কাতারের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৭ জুলাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি সমাপ্ত হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। আঞ্চলিক এই সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়ে ইরান জানিয়েছে, অঞ্চলে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর বিস্তারিত প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববাসী, তবে বিশ্লেষকদের মতে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

জেএস