বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, গত বছরের তুলনায় দুই দেশের বাণিজ্য ইতিমধ্যে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানে বাংলাদেশের জন্য ১০ হাজার টন পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশ যেন এই সুযোগটি কাজে লাগায়।”

এ সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি পণ্য পাকিস্তানে কোনো বাধা ছাড়াই রপ্তানির জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আম, কাঁঠাল ও আনারস আমদানির জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সাইবার সিকিউরিটি, ন্যানো টেকনোলজি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো আধুনিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের জন্য পাকিস্তানে অ্যাকাডেমিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বাড়ানোর বিষয়েও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির কোটা বা সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানালে হাইকমিশনার ইতিবাচক সাড়া দেন।

আলোচনাকালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ জুলাই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ওআইসির (ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা) আয়োজনে ‘নবম মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স অন উইমেন’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য হাইকমিশনার মন্ত্রীকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এনডিসি এবং পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ।

জেএস