কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে রায়হান (২৫) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

একই রায়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় অনুযায়ী উভয় দণ্ড একসঙ্গে কার্যকর হবে।

গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) আসামির অনুপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) উৎপল চৌধুরী এ রায় প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রায়হান করিমগঞ্জ উপজেলার হাসনপুর (মাস্টার বাড়ি) গ্রামের হারুণ-অর-রশীদের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গ্রেফতার বা আদালতে আত্মসমর্পণের দিন থেকে তার সাজার মেয়াদ শুরু হবে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, করিমগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে রায়হানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালের ৪ মার্চ পরীক্ষা শেষে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রায়হান ওই ছাত্রীকে করিমগঞ্জ হাসপাতালের পেছনের একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারণ করে রাখা হয়।

পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিয়ের জন্য চাপ দিলে রায়হান তালবাহানা শুরু করে এবং একপর্যায়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় সে। ইতোমধ্যে আসামি তার কয়েকজন বন্ধুর মোবাইলেও ভিডিওটি পাঠায়।

এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত গতকাল এ রায় প্রদান করেন।

ইউ