এইচএসসি পরীক্ষায় ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটার পর শিক্ষামন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আবু খায়ের মো. কামাল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, শনিবার (৪জুলাই) এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা চলাকালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। ওই কক্ষে সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের ১০০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। পরীক্ষার পুরো সময় এই শিক্ষার্থীরা ভুল প্রশ্নপত্রে উত্তর দেন।

পরীক্ষার্থীরা জানান, সারা দেশে যেখানে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে তাদের ভিন্ন প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা তীব্র আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী এক পরীক্ষার্থী নুশরাত জাহান বলেন, ‘সারা বাংলাদেশ একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে, আর আমাদের ১০০ জনকে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলো। এখন আমাদের পরীক্ষার ফলাফল কী হবে, পাস করব কি না, কিংবা জিপিএ-৫ পাব কি না—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় আছি।’

বিষয়টি জানার সাথে সাথে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড তদন্তে নামে এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে ওই কেন্দ্রের সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অব্যাহতি প্রদান করে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শওকত আলম মীর বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা কলেজে এসেছেন। তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

এ ঘটনার পর পরীক্ষার্থীদের ফলাফলের বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরবর্তীতে দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

জেএস