ক্ষতি ৩৮ কোটি টাকা ছাড়ালটানা বৃষ্টিতে তছনছ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি এবং মাছের ঘের। কৃষি ও মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী, বিভাগের ছয় জেলায় এ দুই খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু কৃষিপণ্যের ক্ষতি প্রায় ১৮ কোটি টাকা এবং মৎস্য খাতের ক্ষতি প্রায় ২০ কোটি টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ফসল: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল খামারবাড়ির তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রায় ৪1 হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন ফসল নষ্ট হয়েছে, যার আনুমানিক আর্থিক মূল্য ১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বেশি।
জেলাভিত্তিক চিত্র: সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে বরগুনা জেলায়, যেখানে ৬ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে ডুবে আছে। তবে খামারভিত্তিক ক্ষতির কারণে সবচেয়ে বেশি (২৫ হাজার ৮০০) কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পিরোজপুরে।
কৃষকদের দুর্ভোগ: নিচু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় পাকা ধান, শাকসবজি ও রোপা আমন বীজতলা নষ্টের উপক্রম হয়েছে। বরিশাল সদর উপজেলার কৃষক রিয়াজ জানান, কাটার আগেই ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ও চালের মানে প্রভাব ফেলছে।
পুকুর ও ঘের প্লাবিত: মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ৬ জেলায় মৎস্য খাতে ২০ কোটি ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ১৪৪টি ইউনিয়নের ৬ হাজার ৪৬৯টি মাছের পুকুর ও খামার প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে ৭৪৭ টন মাছ, ৯৩ লাখ মাছের পোনা এবং ৪৫ মেট্রিক টন চিংড়ি ভেসে গেছে।
জেলেদের প্রাণহানি: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে নদী ও সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়ে পটুয়াখালীর পাঁচজন জেলে প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৫ জন।
টানা বর্ষণে এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক ও মৎস্য উদ্যোক্তারা। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া মৎস্য খাতে ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, বরাদ্দ পেলে দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেএস

বরিশাল ব্যুরো
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.












