ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের দীর্ঘ ২৪ বছরের এক তিক্ত ইতিহাস। ২০০২ সালে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জয়ের পর থেকে নকআউট পর্বে ইউরোপের কোনো দলকে হারানোর স্বাদ পায়নি সেলেসাওরা। এবার নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি সেই দীর্ঘ অভিশাপ থেকে মুক্তির এক অনন্য সুযোগ।
২০০৬ সাল থেকে ২০২২ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিল যতবার নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে, প্রতিবারই তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ইউরোপের কোনো না কোনো দল। ২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস, ২০১৪ সালে জার্মানি (৭-১ ব্যবধানে হার), ২০১৮ সালে বেলজিয়াম এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ব্রাজিলের। সেলেসাওদের জন্য এই পরিসংখ্যান যেমন দুশ্চিন্তার, তেমনি নরওয়ের বিপক্ষে জয় না পাওয়ার ইতিহাসটিও বেশ পুরনো। ফুটবল ইতিহাসে নরওয়েই একমাত্র দল, যাদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো জয় নেই ব্রাজিলের।
এই দীর্ঘ খরা কাটানোর গুরুদায়িত্ব এখন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির কাঁধে। ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নকআউট ম্যাচ খেলার প্রশ্নে আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ক্লাব ফুটবলে বহুবার সফল হওয়া এই কোচ এবার জাতীয় দলের হয়ে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে মরিয়া।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ‘শুরু থেকেই দল ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত ও দৃঢ়। নকআউট ম্যাচে জয়ের মূলমন্ত্র হলো রক্ষণের দৃঢ়তা, আমরা সেদিকেই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছি।’
যদিও সাম্প্রতিক ইতিহাস ব্রাজিলের জন্য হতাশার, তবুও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে সামগ্রিক রেকর্ডে এখনও ব্রাজিল এগিয়ে। ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপের মঞ্চে এ পর্যন্ত ১৭টি ম্যাচ জিতেছে ব্রাজিল, বিপরীতে হেরেছে ৯টিতে। ড্র হওয়া ৫টি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে টাইব্রেকারে জয় এবং দুটিতে হারের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।
আগামী রোববার নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে টিকে থাকার লড়াইয়ের পাশাপাশি ২৪ বছরের ইউরোপীয় প্রতিপক্ষকে হারানোর খরা কাটাতে পারবে কি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জেএস