২০৩০ বিশ্বকাপ জেতার পথে স্পেনের সামনে যে দুই বড় চ্যালেঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ জিতে বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় নিজেদের নাম লিখিয়েছে স্পেন। তবে এই গৌরবের সঙ্গেই তাদের সামনে এসে কড়া নাড়ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। ফলে স্বাগতিক হিসেবে মাঠে নেমে শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি এক বিরল ইতিহাস গড়ার হাতছানি রয়েছে তাদের সামনে। তবে ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান বলছে, এই জোড়া কীর্তি অর্জন করা স্পেনের জন্য প্রায় অসম্ভব এক ব্যাপার হতে পারে।
১. টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের ‘ট্রেজারি’ বা অভিশাপ
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দুটি দল টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পেরেছে। দল দুটি হলো—
ইতালি: ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সাল।
ব্রাজিল: ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সাল।
সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনা এই তালিকায় নাম লেখানোর স্বপ্ন দেখলেও ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে সেই স্বপ্নভঙ্গ হয়। এখন দীর্ঘ সময় পর সেই বিরল কীর্তি গড়ার সুযোগ এসে গেছে স্পেনের সামনে। কিন্তু টানা দুইবার শিরোপা ধরে রাখার এই কীর্তি ফুটবল বিশ্বে অত্যন্ত বিরল ও কঠিন।
২. স্বাগতিক দেশের শিরোপা জয়ের ‘অভিশাপ’
স্পেনের সামনে আরেকটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জেতার। তবে পরিসংখ্যান তাদের পক্ষে কথা বলছে না। সবশেষ ১৯৯৮ সালে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ জিতেছিল। এরপর থেকেই যেন স্বাগতিকদের ওপর নেমে এসেছে এক অদৃশ্য অভিশাপ।
গত প্রায় তিন দশকে কোনো স্বাগতিক দেশই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি:
২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—প্রতিটি আসরেই স্বাগতিকরা শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
ইতিহাসে নিজ দেশে বিশ্বকাপ জয়ের নজির রয়েছে মাত্র কয়েকটি দলের—উরুগুয়ে (১৯৩০), ইতালি (১৯৩৪), ইংল্যান্ড (১৯৬৬), পশ্চিম জার্মানি (১৯৭৪), আর্জেন্টিনা (১৯৭৮) এবং ফ্রান্স (১৯৯৮)।
কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বর্তমান স্পেন দল ইউরো ২০২৪ ও বিশ্বকাপ ২০২৬ জিতে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। তবে ২০৩০ সালে নিজেদের সমর্থকদের সামনে ট্রফি ধরে রাখা এবং স্বাগতিক দেশের ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙা—এই দুটি চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে জয় করতে পারলে ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে স্পেন।
জেএস













