না ফেরার দেশে প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রবীণ রাজনীতিক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই। রবিবার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
মরহুমের কনিষ্ঠ পুত্র নওফেল জমির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ ফজরের ওয়াক্তে তার পিতা মহান রবের সান্নিধ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। বরেণ্য এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও রাজনৈতিক পদচারণা
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।
১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তার। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরে জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জাগদল ও পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। দলটির দীর্ঘ সময়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। আইনমন্ত্রী থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিল প্রণয়নে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে ১৯৭৯, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৯ সালে বিভিন্ন আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। রাজনীতি ও আইন পেশার পাশাপাশি নিজ এলাকায় শিক্ষা বিস্তারেও তিনি রেখে গেছেন অনন্য অবদান।
মরহুমের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে তার পরিবার ও দলীয় সূত্র থেকে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
জেএস

ডেসটিনি ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







