ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেই বড় ধরনের আইনি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। আর্থিক অনিয়ম, কর ফাঁকি ও অর্থপাচারের অভিযোগে সংস্থাটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

এফবিআইয়ের তদন্তের নেপথ্যে

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘লা ন্যাসিওন’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফবিআই এবং ওয়াশিংটন ডিসি ও মায়ামির ফেডারেল প্রসিকিউটররা যৌথভাবে তদন্ত করছে যে, কীভাবে এএফএর আন্তর্জাতিক স্পন্সরশিপ ও বাণিজ্যিক আয় থেকে আসা কয়েকশ' মিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের মূল নজরে রয়েছে ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি’, যারা বিদেশে এএফএর বিপণন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এএফএর অন্তত ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ফ্লোরিডার একাধিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে, যে কোম্পানিগুলোর কোনো বৈধ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নেই।

আর্জেন্টিনাতেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের পাশাপাশি নিজ দেশ আর্জেন্টিনাতেও এএফএ ভয়াবহ দুর্নীতির তদন্তের মুখে রয়েছে। দেশটির কর ও শুল্ক সংস্থা এআরসিএ’র নির্দেশে এএফএর সদর দপ্তরসহ ১৭টি পেশাদার ক্লাবে ৩০টিরও বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের কর ফাঁকির পৃথক এক মামলায় এএফএ সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়া এবং কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তাঁদের সম্পদ জব্দ করার পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার এএফএর

তবে সব ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এএফএ। গত ডিসেম্বরের শেষে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও ভিত্তিহীন’।

এএফএর ভাষ্য, ‘ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি’-র সঙ্গে তাদের চুক্তিটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের আদালতেই তা পরীক্ষিত। সংস্থাটির দাবি, আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এই সংগঠিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বিশ্বকাপের মাঠে আর্জেন্টিনা দল যখন সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে, তখন মাঠের বাইরে সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর আইনি অভিযোগ ফুটবল বিশ্বে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জেএস