মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলার আড়ালে ইরান গোপনে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে—এমন বিস্ফোরক গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

সোমবার (২৭ জুলাই) জেরুজালেমের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাਤੇ মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করেছে।

হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসে আজ মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ইরান যুদ্ধ এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের বিষয়টি এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা।

ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, বৈঠকে নেতানিয়াহুর প্রতিনিধিদল সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনকে বোঝানোর চেষ্টা করবে যে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ইরান কোনো ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ কূটনীতি বা আলোচনা চালাচ্ছে না, বরং আলোচনার আড়ালে তারা তাদের গোপন পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে।

পিক্যাক্স মাউন্টেন নিয়ে শঙ্কা

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ২০২০ সালে নির্মাণকাজ শুরুর পর এই প্রথম ইরানের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত পিক্যাক্স মাউন্টেন ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মূল হাতিয়ার—পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজগুলো স্থানান্তর করা হয়েছে।

নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার অতি নিকটে ‘কোলাং পর্বত’-এর ৩০০ ফুটেরও বেশি গভীরে নির্মিত এই সুবিশাল পাহাড়ি ঘাঁটিটি ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও কৌশলগত পারমাণবিক প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও নেতানিয়াহুর অবস্থান

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনায় সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট সতর্ক করে বলেছেন, কূটনীতি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলে যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

এর আগে ট্রাম্প পিক্যাক্স মাউন্টেনে ইরানের সামরিক তৎপরতার খবরকে কিছুটা গুরুত্বহীন করে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন যে, ওই পাহাড়ি ঘাঁটির সাম্প্রতিক কার্যক্রম সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। মূলত ট্রাম্পের সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতেই এবার সরাসরি অকাট্য গোয়েন্দা নথি নিয়ে হোয়াইট হাউসে হাজির হচ্ছেন নেতানিয়াহু।

নাতাঞ্জ ও পিক্যাক্স মাউন্টেন ছাড়াও সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা কীভাবে গোপনে পুনর্গঠন করা হচ্ছে, তারও একটি পূর্ণাঙ্গ গোয়েন্দা চিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সূত্র।

জেএস