পর্দায় তার সাহসী ও আপসহীন উপস্থিতি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। তবে বাস্তব জীবনের এক উত্তপ্ত ঘটনায় সহকর্মীদের নিয়ে চরম আতঙ্কের অভিজ্ঞতা পার করলেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবন অভিযানের পর ভবনের ভেতরে তৈরি হওয়া থমথমে পরিস্থিতিতে অন্য সাংসদদের সঙ্গে তিনিও রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত সোমবার রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল 'সিজেপি'। হাজার দশেক শিক্ষার্থী ও সমর্থক সেখানে জড়ো হয়ে সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে।

তারকা থেকে শুরু করে সমাজের একাংশ পুলিশের এই ভূমিকার সমালোচনা করলেও, নিজের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে উল্টো দিল্লি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কঙ্গনা। সংসদের অধিবেশন চলাকালীন মূল ভবনের কাছাকাছি আন্দোলনকারীরা চলে এলে নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনের সব প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সংসদের ভেতরে ভয়ের পরিবেশ

সে সময় সংসদের ভেতরে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদেরা অবস্থান করছিলেন। ভেতরে নিরাপত্তারক্ষীদের দ্রুত ছোটাছুটি এবং বাইরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে এক ভীতিপ্রদ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সংবাদমাধ্যমের সামনে সেই অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কঙ্গনা বলেন, ‘আমরা সব সাংসদ তখন সংসদকক্ষের ভেতরে। সকলেই ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম এই ভেবে যে, উন্মত্ত জনতা হয়তো আমাদের ওপর হামলা চালাবে। দিল্লি পুলিশ এদিন ঢাল হয়ে আমাদের রক্ষা করেছে।’

রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত

সংসদ ভবনের বাইরের এই আন্দোলন ও প্রতিবাদের তীব্র সমালোচনা করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই অভিনেত্রী ও সাংসদ। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ ধরনের চাপ সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধীরে ধীরে সবাই বিজেপি এবং সনাতন সংস্কৃতির দিকেই ফিরে আসবেন। কারণ, এটাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। বাকি সবই বাইরে থেকে ধার করা।’

ঘটনার পর থেকে দিল্লির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংসদ চত্বরের সুরক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জেএস