সয়াবিন তেলে ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমারমিলল ভোজ্যতেলে প্রথমবার নাইলন ও পলিইউরেথেনের উপস্থিতি

ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে প্রচলিত সয়াবিন তেলে ভয়াবহ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের পর এবার তাতে ছয় ধরনের ক্ষতিকর প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষকের এই যুগান্তকারী গবেষণা আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এর ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
নমুনায় মিলল যে ছয় ধরনের প্লাস্টিক
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করে আধুনিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষা চালানো হয়। বিশ্লেষণে তেলটিতে যেসব প্লাস্টিক পলিমার পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো:
লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (LDPE) ও হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (HDPE): প্লাস্টিকের পাত্র, মোড়ক ও সংরক্ষণসামগ্রী তৈরিতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।
পলিপ্রোপিলিন (PP) ও পলিইথিলিন টেরেফথালেট (PET): তেল উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন বা প্যাকেজিংয়ের সময় এগুলো তেলের সঙ্গে মিশতে পারে।
পলিইউরেথেন ও নাইলন: গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, ভোজ্যতেলে এই দুটি পলিমারের উপস্থিতি এবারই প্রথম শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষকদের ধারণা, উৎপাদন ও পরিশোধনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ফিল্টার, সিলিং উপকরণ বা প্যাকেজিংসামগ্রী থেকে পলিইউরেথেন ও নাইলনের কণা তেলে যুক্ত হতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের আকার ও আকৃতি
পরীক্ষায় দেখা গেছে, তেলের নমুনায় প্রাপ্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের ৮২.৫ শতাংশই ছিল তন্তু বা ফাইবার আকৃতির। এছাড়া খণ্ডিত কণা, ফিল্ম, ফোম, পেলেট ও বিড আকৃতির মাইক্রোপ্লাস্টিকও শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ব্র্যান্ডেড বা বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা ও নন-ব্র্যান্ডেড তেলে এসব কণার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
দূষণের সম্ভাব্য কারণ ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ
খোলা তেল সংরক্ষণে পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাত্রের ব্যবহার, খোলা অবস্থায় তেল বিক্রি এবং পরিবেশগত দূষণকে এর জন্য দায়ী মনে করছেন গবেষকেরা। তবে শুধু খোলা তেল নয়, বোতলজাত তেলেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ায় উৎপাদন, পরিশোধন ও প্যাকেজিংয়ের পুরো প্রক্রিয়াটিকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
গবেষকরা ভোজ্যতেল উৎপাদন ও প্যাকেজিংয়ের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার সুপারিশ করেছেন। তবে নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক মিললেও এটি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রোগের কারণ কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। মানবদেহে এসব পলিমারের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জানতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
জেএস

ডেসটিনি ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।











