যশোরে পুলিশের যৌথ অভিযানচট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আলোচনায় আসা শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যশোর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি যৌথ টিম এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে চট্টগ্রামে ‘ডেভিড ইমন’ নামের কারও কোনো পরিচিতি ছিল না। তবে পরবর্তীতে বিদেশে অবস্থানরত অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’ গ্রুপে যোগ দিয়ে দ্রুতই অপরাধ জগতে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে বড় সাজ্জাদের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ হিসেবে কাজ করছিলেন।
গত বছরের ৩০ মার্চ চট্টগ্রাম শহরের চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মুখে প্রাইভেট কারে গুলি করে জোড়া খুন, ২৩ মে পতেঙ্গা সৈকতে সন্ত্রাসী ‘ঢাকাইয়া আকবর’ খুন এবং ৫ নভেম্বর সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে।
সর্বশেষ চলতি বছরের ১৩ জুলাই চট্টগ্রামের ‘ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন)’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ৩৫ লাখ টাকা ও মালামাল লুটের ঘটনায় ডেভিড ইমন নতুন করে আলোচনার শীর্ষে আসেন।
ডিডিএন প্রতিষ্ঠানে হামলার পর অনুসন্ধানে চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক ভয়ংকর ও সুনির্দিষ্ট ‘থ্রি-টায়ার’ বা তিন স্তরের অপরাধ সিন্ডিকেটের তথ্য উঠে এসেছে। অপরাধ বিশ্লেষক ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দাদের মতে, মূলত ভীতি প্রদর্শনকে পুঁজি করে এরা কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।
প্রথম স্তর (রিমোট কন্ট্রোল মাস্টারমাইন্ড): এই স্তরে শীর্ষে আছেন বিদেশে আত্মগোপনে থাকা বড় সাজ্জাদ ও হাবীব খানের মতো সন্ত্রাসীরা। ফ্রান্স বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তারা ইন্টারনেট কলিং অ্যাপস ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করেন এবং হামলার রূপরেখা তৈরি করে দেন।
দ্বিতীয় স্তর (হোয়াইট কলার ইনফর্মার): এই স্তরে রয়েছেন সমাজের কিছু ছদ্মবেশী পেশাজীবী, ব্যবসায়ী এবং উঠতি কিছু সন্ত্রাসী (যেমন—ডেভিড ইমন বা রায়হান)। এদের কাজ চট্টগ্রাম শহরের ব্যবসায়ীদের ব্যাংক লেনদেন, কারখানার তথ্য বা ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশে থাকা বড় ভাইদের কাছে পাঠানো।
তৃতীয় স্তর (লোকাল হিট স্কোয়াড): এরা মূলত স্থানীয় কিশোর গ্যাং, অভ্যাসগত অপরাধী বা ভাসমান লোকজন। মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এরা ভাড়া হয়। মূল গডফাদারদের না চিনে কেবল নির্দেশমতো গাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই এদের কাজ।
অভিযোগ রয়েছে, এই ‘থ্রি-টায়ার’ কাঠামোর দ্বিতীয় স্তরে থেকে সরাসরি সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছিলেন ডেভিড ইমন। তাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই অপরাধ চক্রের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
জেএস

যশোর প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










