ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী ও শপথ নেওয়া বিএনপির সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীর-কে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগদান থেকে বিরত রাখতে করা আপিল আবেদন তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এই আদেশের ফলে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তার সংসদ অধিবেশনে যোগদানে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ প্রেক্ষাপট
মনোনয়ন বিতর্ক ও রিট: ভোটের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন। গত ১৮ জানুয়ারি ইসি তার মনোনয়ন বাতিল করে। এরপর হাইকোর্ট সেই আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন।
ফলাফল স্থগিত ও লিভ টু আপিল: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশনায় ফল আটকে ছিল।
হাইকোর্টের রায় ও শপথ: গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ দ্রুত রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে তার প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। রায়ের দিনই নির্বাচন কমিশন তার গেজেট প্রকাশ করে এবং সন্ধ্যায় তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানো হয়।
আপিল বিভাগের আজকের আদেশ: হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত ও সারোয়ার আলমগীর যেন সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন—সে সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ১৩ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন। ২৭ ও ২৮ জুলাই দুই দিন এই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আজ বুধবার তা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।
আজ আদালতে সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মো. আহসানুল করিম ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে আপিলকারী মুহাম্মদ নুরুল আমীনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
জেএস