রাঙামাটির বরকল উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার পর তিন শতাধিক বসতঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত; সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে এলাকাবাসী, রাঙামাটির পার্শ্ববর্তী বরকল উপজেলার দুর্গম ভুষনছড়া, কলাবুনিয়া, কুকিছড়া, এরাবুনিয়া ও সীমান্তবর্তী ঠেগা খুব্বাংএ ভয়াবহ বন্যার পানি ধীরে ধীরে নেমে গেলেও রেখে গেছে ধ্বংসস্তূপ আর দীর্ঘশ্বাস।
এক সময়ের প্রাণচঞ্চল এসব এলাকা, রাস্তাঘাট ও বাজার এখন কাদামাটি, ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি, দোকানঘর, নষ্ট হয়ে যাওয়া মালামাল,ডুবে যাওয়া পেঁপে সহ ফলজ বাগান ও ধানের বীজতলা আর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বরকল উপজেলার ভুষনছড়া, আইমাছড়া ইউনিয়নের তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পানিতে তলিয়ে যায়। বানভাসি মানুষের ঘরবাড়ি, দোকানে থাকা চাল, ডাল, তেল, কাপড়, ঔষুধ, ইলেকট্রনিকসসহ নানা ধরনের পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। অনেক দোকানের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
শুধু বসতঘর নয়, বন্যার তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ফলজ বাগান ও মাছের ঘের। অনেক পরিবার এখনও ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
কৃষকরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা তাদের পুঁজি কয়েক ঘণ্টার বন্যায় শেষ হয়ে গেছে। ঋণ নিয়ে বাগান করা অনেকেই এখন দিশেহারা। দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহায়তা না পেলে নতুন করে শুরু করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এলাকার কারণে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বন্যার পানি নেমে গেলেও বরকলের বানভাসি মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—এত বড় ক্ষতির পর আদৌ কি তারা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাবেন? নাকি সবকিছু আবারও নিজেদের কাঁধেই বহন করতে হবে?
স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, বন্যার পানিতে ফলজ বাগান ও ধানের বীজতলা প্রায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারি ক্ষতিপূরণ ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো খুব কঠিন।"
একজন ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর বলেন, পানি চলে গেছে, কিন্তু আমাদের কষ্ট যায়নি। ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র সব নষ্ট হয়েছে।কাজকর্ম নাই। সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে গেছে। সরকার যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।"
উপজেলা বি এনপির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যায়্ন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
প্রশাসনের আশা, তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পাবেন।
বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
ইউ