টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলে আসা মার্কিন ধারাবাহিক সামরিক হামলার অবসান ঘটিয়ে ইরানে নতুন করে কোনো সামরিক হামলা না চালানোর জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে গত ১৩ দিন ধরে চলে আসা প্রতিদিনের বিমান ও সামরিক অভিযানের আপাতবিরতি ঘটল।
শনিবার (২৫ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি অবগত দুটি সূত্রের বরাتری এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিদ্ধান্তের পেছনের প্রধান কারণসমূহ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করেছে:কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি: চলমান উত্তেজনার মাঝে আলোচনার পথ খোলা রাখা এবং তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দেওয়া।
কার্যকারিতার সর্বোচ্চ সীমা: মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান মাত্রার সামরিক হামলার কার্যকারিতা তার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে।ওমানের মধ্যস্থতা ও কূটনীতি জানা গেছে, ওমানের একটি প্রতিনিধি দল হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন কোনো সমঝোতা বা চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যে তেহরান সফরে রয়েছে।
আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই মধ্যস্থতা কার্যক্রমে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে এবং উইকেন্ডের মধ্যে ওমান ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হতে পারে। আর এর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। “আমরা এই মুহূর্তে ইরানিদের সঙ্গে কথা বলছি। আমি মনে করি দিন যত যাচ্ছে তারা আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং লকড অ্যান্ড লোডেড, তবে আমরা আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছি।”— ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতের বিকল্প যুদ্ধ পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এই বিরতি স্থায়ী না সাময়িক—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ভবিষ্যতে যদি বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানে ফিরে যেতে হয়, সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন সেনাবাহিনী জরুরি অবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় বিকল্প যুদ্ধ পরিকল্পনা (কনটিনজেন্সি প্ল্যান) তৈরির কাজ অব্যাহত রেখেছে। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেননি।
এ বিষয়ে অ্যাক্সিওসের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন প্রশাসন।
জেএস