চলতি বছর ইউরোপে একের পর এক তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস ও ইসিএমডব্লিউএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী জুন মাসটি ছিল পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে উষ্ণ জুন। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম জুন মাস হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রাক-শিল্পায়ন যুগের গড় তাপমাত্রার চেয়ে এবারের তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চরম এই আবহাওয়া এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি ইউরোপের গ্রীষ্মকালের একটি দীর্ঘস্থায়ী ও নিয়মিত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।
গত মে মাস থেকেই ইউরোপের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহের ঢেউ বইছে। জুনের শেষদিকে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে মাসিক ও সর্বকালের সব তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি ও পরিবেশের ওপর। বিশেষ করে আইবেরিয়ান উপদ্বীপ (স্পেন ও পর্তুগাল), দক্ষিণ ফ্রান্স এবং পূর্ব ইউরোপের বড় অংশে চরম শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দাবানল বেড়েছে, নদীর পানির প্রবাহ কমেছে এবং খরা পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ইসিএমডব্লিউএফ-এর জলবায়ু বিষয়ক কৌশলগত প্রধান সামান্থা বার্গেস বলেন, “এই রেকর্ডগুলো প্রমাণ করে যে, তাপপ্রবাহের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে এবং সমুদ্রের পানি দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ থাকছে। এটি বিশ্বজুড়ে মানুষ, বাস্তুসংস্থান ও অবকাঠামোর জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি করছে।”
শুধু ভূপৃষ্ঠ নয়, জুনে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বৈশ্বিক বরফমুক্ত মহাসাগরগুলোর ইতিহাসে এবারের জুন মাসটি ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। কিছু বিজ্ঞানী এর জন্য প্রশান্ত মহাসাগরের ‘এল নিনো’ পরিস্থিতিকে আংশিকভাবে দায়ী করলেও, ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্যমতে, মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনই তাপমাত্রা বৃদ্ধির মূল কারণ।
জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইইউ-এর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওটমার এডেনহোফার বলেন, কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে না আনলে দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় এড়ানো কঠিন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের জীবিকা রক্ষায় আগামী বছরগুলোতে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে আরও জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ তাপ জমা হওয়ার ফলে ঘন ঘন তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
জেএস