ফুটবল মাঠে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল ৯০ মিনিটের খেলায় সীমাবদ্ধ থাকে না; সেগুলো হয়ে ওঠে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ ঠিক এমনই এক মহাকাব্য।
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবারও মুখোমুখি হচ্ছে। আর এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে ভেসে উঠছে চার দশকের পুরনো সেই উত্তেজনা, বিতর্ক আর আবেগের গল্পগুলো।
সেই 'ঈশ্বরের হাত' ও শতাব্দীর সেরা গোল
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছে। একদিকে দিয়েগো ম্যারাডোনার 'ঈশ্বরের হাতের' বিতর্কিত গোল, অন্যদিকে সেই ঘটনার মাত্র চার মিনিট পরই নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে করা সেই অবিশ্বাস্য 'শতাব্দীর সেরা গোল'। আজও ইংল্যান্ডের মানুষের কাছে সেই দিনের পরাজয় এক না-শুকানো ক্ষত, যা যুগে যুগে এই লড়াইকে দিয়েছে আলাদা উত্তাপ।
বেকহ্যামের বিষাদ ও প্রায়শ্চিত্ত
এই লড়াইয়ের গল্পে বারবার ঘুরে আসে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের কথা। মুহূর্তের উত্তেজনায় লাল কার্ড দেখে ডেভিড বেকহ্যাম তখন পরিণত হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের জাতীয় ভিলেনে। কিন্তু চার বছর পর ২০০২ সালে সেই জাপ্পোরো স্টেডিয়ামেই বেকহ্যাম লিখেছিলেন অন্য গল্প। পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের বহু প্রতীক্ষিত জয় নিশ্চিত করে তিনি শুধু ম্যাচই জেতেননি, সম্পন্ন করেছিলেন নিজের ব্যক্তিগত প্রায়শ্চিত্ত। গোলের পর জার্সি খামচে ধরা তার সেই উদযাপন এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে।
উদীয়মান ওয়েন
একই ঐতিহাসিক ম্যাচে ১৯৯৮ সালে আঠারো বছর বয়সী মাইকেল ওয়েন যেন ঘোষণা দিয়েছিলেন নতুন এক যুগের। মাঝমাঠ থেকে আর্জেন্টাইন রক্ষণ চিরে করা তার সেই গোল বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিল, এক নতুন তারকার আগমন ঘটেছে।
কেন এই সেমিফাইনাল আলাদা?
২০২৬ বিশ্বকাপের এই সেমিফাইনাল কেবল একটি ম্যাচ নয়; এটি সেই পুরনো বারুদ ও ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়। যেখানে একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আর অন্যদিকে গত ম্যাচের জোড়া গোলদাতা জুদ বেলিংহ্যামের নেতৃত্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ইংল্যান্ড।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ডের কাছে এটি পুরনো ক্ষতের প্রতিশোধ নেওয়ার মঞ্চ, আর আর্জেন্টিনার কাছে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার লড়াই। মাঠের লড়াইয়ে জয়ী যে-ই হোক, ২০২৬ সালের এই সেমিফাইনাল ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে নেবে আরেকটি আবেগী অধ্যায় হিসেবে।
ইতিহাস কি নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে, নাকি নতুন কোনো বীরের জন্ম হবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।
জেএস